হুমায়ূন আহমেদের জীবনী
হুমায়ূন আহমেদের জীবনী
🧑🎓 হুমায়ূন আহমেদের জীবনী
| শিরোনাম | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | হুমায়ূন আহমেদ |
| জন্ম তারিখ | ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ |
| জন্মস্থান | নেত্রকোনা জেলা, বাংলাদেশ |
| পিতা | ফয়জুর রহমান আহমেদ (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ভাষা শহীদ) |
| মাতা | আয়েশা ফয়জুন্নেসা |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর - যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি |
| পেশা | সাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, শিক্ষক |
| কর্মজীবন শুরু | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে |
| সাহিত্যিক জীবন শুরু | ১৯৭২ সালে উপন্যাস “নন্দিত নরকে” প্রকাশের মাধ্যমে |
| বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম | নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, কৃষ্ণপক্ষ, অচিনপুর, হিমু, মিসির আলী সিরিজ |
| নাটক ও টেলিফিল্ম | এইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, আয়না ঘর, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত |
| চলচ্চিত্র | আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, দারুচিনি দ্বীপ, ঘেটুপুত্র কমলা |
| বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি | বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল এবং বিজ্ঞানবিষয়ক রচনা লিখেছেন |
| পুরস্কার ও সম্মাননা | - একুশে পদক (১৯৯৪) - বাংলা একাডেমি পুরস্কার - জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (বিভিন্নবার) |
| ব্যক্তিগত জীবন | প্রথম স্ত্রী: গুলতেকিন খানদ্বিতীয় স্ত্রী: মেহের আফরোজ শাওনসন্তান: ৫ জন |
| মৃত্যুর তারিখ | ১৯ জুলাই ২০১২ |
| মৃত্যুর স্থান | নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র |
| সমাধিস্থ | নুহাশপল্লী, পিরুজালী, গাজীপুর |
| স্মরণীয় অবদান | আধুনিক বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় ধারার নির্মাতা, হিমু-মিসির আলীর স্রষ্টা |
🎓 শিক্ষা ও কর্মজীবন
হুমায়ূন আহমেদ তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন বগুড়ার একটি স্কুল থেকে, এরপর তিনি ভর্তি হন ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং রসায়নে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল পলিমার কেমিস্ট্রি।
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন প্রিয় ও জনপ্রিয়, ছাত্রদের সঙ্গে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাঁর ক্লাসে অনেকেই শুধু তাঁকে দেখতেই আসতেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চা ও নাট্যনির্মাণেও সময় দিতে শুরু করেন।
তাঁর সাহিত্যিক জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে শেষ পর্যন্ত ২০০০ সালের দিকে তিনি স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং পুরোপুরি লেখালেখি ও চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন। এই সময় থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন এবং সমসাময়িক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রায় ২০ বছর অধ্যাপনা করেন।
✍️ সাহিত্য জীবন
১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস "নন্দিত নরকে" প্রকাশিত হয়, যা পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এরপর তিনি একের পর এক জনপ্রিয় উপন্যাস লিখে গেছেন, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
শঙ্খনীল কারাগার
-
দেবী
-
অমানুষ
-
কোথাও কেউ নেই
-
অচিনপুর
-
বাদশাহ নামদার (ঐতিহাসিক উপন্যাস)
-
মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
🔎 জনপ্রিয় চরিত্রসমূহ
তার সৃষ্টি করা কাল্পনিক চরিত্রগুলো বাস্তব জীবনের মতোই জনপ্রিয়তা পেয়েছে:
-
হিমু – হলুদ পাঞ্জাবি পরা, উদ্ভট কিন্তু গভীর জীবনদর্শনসম্পন্ন এক চরিত্র।
-
মিসির আলি – যুক্তিবাদী মনস্তাত্ত্বিক, যিনি অতিপ্রাকৃত ঘটনা বিশ্লেষণ করেন।
-
শুভ্র – কোমল হৃদয়ের নিস্পৃহ একজন তরুণ, যিনি সত্য ও মাধুর্যকে ধারণ করে।
📺 নাটক ও চলচ্চিত্র
হুমায়ূন আহমেদ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তার কিছু বিখ্যাত নাটক:
-
কোথাও কেউ নেই
-
এইসব দিনরাত্রি
-
আজ রবিবার
🎬 চলচ্চিত্র:
-
আগুনের পরশমণি (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত)
-
শ্রাবণ মেঘের দিন
-
দুই দুয়ারী
-
ঘেটুপুত্র কমলা
🏅 পুরস্কার ও সম্মাননা
| পুরস্কার | বছর |
|---|---|
| বাংলা একাডেমি পুরস্কার | ১৯৮১ |
| একুশে পদক | ১৯৯৪ |
| জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার | একাধিকবার |
| আনন্দ পুরস্কার (ভারত) | ১৯৯৩ |
🪦 মৃত্যু ও দাফন
হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছানুযায়ী, তাকে নুহাশ পল্লী (গাজীপুর)–তে সমাহিত করা হয়।
🔚 উপসংহার
হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক। আধুনিক জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাস রচনা ও নাটক-চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের সাহিত্যে এক অনন্য আসন অর্জন করেছেন। পাঠকের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0