Poet, Novelist, Playwright, Composer, Painter · British Raj
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) — সাহিত্যে নোবেল পাওয়া প্রথম অ-ইউরোপীয়, গীতাঞ্জলি থেকে শেষ লেখা পর্যন্ত যাঁর কলমে বাংলা কবিতা, গান, গল্প ও উপন্যাস নতুন রূপ পেয়েছে, আর যাঁর দুটি গান দুই দেশের জাতীয় সংগীত।
Wikimedia Commonsরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষার সেই লেখক, যাঁর গান দুটি রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত — বাংলাদেশের আমার সোনার বাংলা আর ভারতের জনগণমন। কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সুরকার, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ — এতগুলো পরিচয় একসঙ্গে খুব কম মানুষের হয়। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া প্রথম অ-ইউরোপীয় তিনি, আর বাংলা সাহিত্যে তাঁর পরিচয় একটাই শব্দে: বিশ্বকবি।
নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি
| Year | Work | Form | Translated as |
|---|---|---|---|
| 1881 | বাল্মীকিপ্রতিভা | গীতিনাট্য | Valmiki Pratibha |
| 1882 | সন্ধ্যাসংগীত | কাব্যগ্রন্থ | Sandhya Sangeet |
| 1883 | বৌ-ঠাকুরাণীর হাট | উপন্যাস | Bou Thakuranir Haat |
| 1884 | ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী | কাব্যগ্রন্থ | Bhanusimha Thakurer Padabali |
| 1887 | রাজর্ষি | উপন্যাস | Rajarshi |
| 1890 | মানসী | কাব্যগ্রন্থ | Manasi |
| 1890 | বিসর্জন | নাটক | Visarjan |
| 1892 | চিত্রাঙ্গদা | নাটক | Chitrangada |
| 1894 | সোনার তরী | কাব্যগ্রন্থ | Sonar Tari |
| 1896 | চিত্রা | কাব্যগ্রন্থ | Chitra |
| 1897 | বৈকুণ্ঠের খাতা | নাটক | Baikunther Khata |
| 1900 | কল্পনা | কাব্যগ্রন্থ | Kalpana |
| 1900 | ক্ষণিকা | কাব্যগ্রন্থ | Kshanika |
| 1900 | গল্পগুচ্ছ | গল্পসংকলন | Galpoguchha |
| 1901 | নৈবেদ্য | কাব্যগ্রন্থ | Naibedya |
| 1901 | নষ্টনীড় | ছোটগল্প | Nastanirh |
| 1903 | চোখের বালি | উপন্যাস | Chokher Bali |
| 1905 | আমার সোনার বাংলা | গান | Amar Sonar Bangla |
| 1906 | খেয়া | কাব্যগ্রন্থ | Kheya |
| 1906 | নৌকাডুবি | উপন্যাস | Noukadubi |
| 1910 | গীতাঞ্জলি | কাব্যগ্রন্থ | Gitanjali |
| 1910 | গোরা | উপন্যাস | Gora |
| 1910 | রাজা | নাটক | Raja |
| 1912 | Song Offerings | কাব্যগ্রন্থ | — |
| 1912 | অচলায়তন | নাটক | Achalayatan |
| 1912 | ডাকঘর | নাটক | Dak Ghar |
| 1912 | ছিন্নপত্র | পত্রসাহিত্য | Chhinnapatra |
| 1912 | জীবনস্মৃতি | স্মৃতিকথা | Jivan Smriti |
| 1913 | The Crescent Moon | কাব্যগ্রন্থ | — |
| 1913 | The Gardener | কাব্যগ্রন্থ | — |
| 1913 | Sādhanā: The Realisation of Life | প্রবন্ধ | — |
| 1914 | গীতালি | কাব্যগ্রন্থ | Gitali |
| 1914 | গীতিমাল্য | কাব্যগ্রন্থ | Gitimalya |
| 1916 | Fruit-Gathering | কাব্যগ্রন্থ | — |
| 1916 | Stray Birds | কাব্যগ্রন্থ | — |
| 1916 | বলাকা | কাব্যগ্রন্থ | Balaka |
| 1916 | ঘরে-বাইরে | উপন্যাস | Ghare Baire |
| 1916 | চতুরঙ্গ | উপন্যাস | Chaturanga |
| 1922 | মুক্তধারা | নাটক | Muktadhara |
| 1925 | পূরবী | কাব্যগ্রন্থ | Purabi |
| 1926 | রক্তকরবী | নাটক | Raktakaravi |
| 1929 | যোগাযোগ | উপন্যাস | Jogajog |
| 1929 | শেষের কবিতা | উপন্যাস | Shesher Kobita |
| 1931 | গীতবিতান | গীতিসংকলন | Gitabitan |
| 1931 | The Religion of Man | বক্তৃতা | — |
| 1932 | পুনশ্চ | কাব্যগ্রন্থ | Punashcha |
| 1933 | চণ্ডালিকা | নাটক | Chandalika |
| 1933 | তাসের দেশ | নাটক | Tasher Desh |
| 1934 | চার অধ্যায় | উপন্যাস | Char Adhyay |
| 1935 | শেষ সপ্তক | কাব্যগ্রন্থ | Shes Saptak |
| 1937 | বিশ্বপরিচয় | প্রবন্ধ | Visva-Parichay |
| 1938 | প্রান্তিক | কাব্যগ্রন্থ | Prantik |
| 1939 | শ্যামা | নৃত্যনাট্য | Shyama |
| 1940 | ছেলেবেলা | স্মৃতিকথা | Chhelebela |
| 1941 | শেষ লেখা | কাব্যগ্রন্থ | Shesh Lekha |
কর্মজীবনের সময়রেখা
- 1861
৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম
- 1875
মাতা সারদা দেবীর মৃত্যু; রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন চোদ্দো
- 1878
ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ডে যাত্রা, প্রথমে ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে; দেড় বছর পর ১৮৮০-তে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই দেশে ফেরেন
- 1883
৯ ডিসেম্বর ভবতারিণী দেবীর সঙ্গে বিবাহ; বিবাহের পর তাঁর নাম হয় মৃণালিনী দেবী
- 1890
কাব্যগ্রন্থ 'মানসী' প্রকাশ এবং শিলাইদহে পারিবারিক জমিদারির তদারকি শুরু
- 1891
'সাধনা' পত্রিকার পর্বের সূচনা (১৮৯১–৯৫); গল্পগুচ্ছের প্রথম চুরাশিটি গল্পের অর্ধেকই এই পর্বের রচনা
- 1901
ডিসেম্বরে শান্তিনিকেতনে পাঁচজন ছাত্র নিয়ে ব্রহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা; সপরিবারে সেখানেই বসবাস শুরু
- 1902
২৩ নভেম্বর পত্নী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু
- 1905
১৯ জানুয়ারি পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু; বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনে যোগদান, এই সময়েই রচিত 'আমার সোনার বাংলা'
- 1910
কাব্যগ্রন্থ 'গীতাঞ্জলি' প্রকাশ
- 1911
১১ ডিসেম্বর 'জনগণমন-অধিনায়ক' রচনা; ২৮ ডিসেম্বর কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনে গানটি প্রথম গাওয়া হয়
- 1912
গীতাঞ্জলির নিজের করা ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings' লন্ডনে প্রকাশিত; ইয়েটসের সঙ্গে পরিচয়
- 1913
১৩ নভেম্বর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ; ২৬ ডিসেম্বর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট
- 1915
১৮ জুন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নাইট উপাধি লাভ
- 1918
২৩ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর শিলান্যাস
- 1919
১৩ এপ্রিলের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৩১ মে নাইট উপাধি ত্যাগ
- 1930
অক্সফোর্ডে হিবার্ট বক্তৃতা; প্যারিস ও লন্ডনে ছবির প্রদর্শনী; ১৪ এপ্রিল আইনস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ
- 1941
৭ আগস্ট যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম, সেখানেই মৃত্যু
জীবনী
জোড়াসাঁকো থেকে
জন্ম ৭ মে ১৮৬১ (২৫ বৈশাখ ১২৬৮), কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর কনিষ্ঠ সন্তান। মা মারা যান তাঁর চোদ্দো বছর বয়সে; বাবা থাকতেন ভ্রমণে। ছেলেবেলা কাটে মূলত বাড়ির কর্মচারীদের হাতে, আর স্কুলের বাঁধা পড়াশোনায় মন বসেনি কোনোদিন — এই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁকে অন্য রকম একটা স্কুল বানাতে টেনে নিয়ে যাবে।
১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় তাঁকে; ব্রাইটনের স্কুল আর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে আইন পড়া শুরু করলেও দেড় বছর পর, ১৮৮০-তে, কোনো ডিগ্রি না নিয়েই দেশে ফেরেন। ১৮৮৩-র ৯ ডিসেম্বর বিয়ে করেন ভবতারিণী দেবীকে, বিয়ের পর যাঁর নাম হয় মৃণালিনী দেবী।
শিলাইদহ: নদী আর মানুষ
১৮৯০ সালে বাবার জমিদারি দেখাশোনার ভার নিয়ে তিনি চলে আসেন শিলাইদহে — আজকের বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায়। পদ্মার বজরায় বসে প্রজাদের কাছে যাওয়া, শাহজাদপুর আর পতিসরের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা — এই এক দশকই তাঁর লেখার সবচেয়ে উর্বর সময়। মানসী (১৮৯০), সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬) — কাব্যগ্রন্থ একের পর এক; আর ১৮৯১ থেকে ১৮৯৫-এর মধ্যে লেখা হয় গল্পগুচ্ছের গল্পগুলোর অর্ধেক — পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, ক্ষুধিত পাষাণ। বাংলা ছোটগল্পের জন্ম কার্যত এই পদ্মার পাড়েই।
শান্তিনিকেতন
১৯০১-এর ডিসেম্বরে বোলপুরের শান্তিনিকেতনে মাত্র পাঁচজন ছাত্র নিয়ে তিনি খোলেন ব্রহ্মচর্যাশ্রম — গাছতলায় ক্লাস, প্রকৃতির মাঝে পড়াশোনা, যে স্কুলে তিনি নিজে পড়তে চাইতেন। পরের কয়েক বছর একের পর এক আঘাত: ১৯০২-এ স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, ১৯০৩-এ মেয়ে রেণুকা, ১৯০৫-এ বাবা, ১৯০৭-এ ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু। এই সময়েই লেখা গীতাঞ্জলি (১৯১০) — শোক আর প্রার্থনার কবিতা।
১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি নামেন গান দিয়ে; আমার সোনার বাংলা লেখা হয় এই সময়েই, শিলাইদহে, বাউল গগন হরকরার সুরে। ১৯১১-র ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশনে প্রথম গাওয়া হয় জনগণমন-অধিনায়ক।
নোবেল, নাইটহুড আর প্রত্যাখ্যান
১৯১২-তে লন্ডনে গীতাঞ্জলির নিজের করা ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়; কবি ইয়েটস লেখেন ভূমিকা। পরের বছর ১৩ নভেম্বর ১৯১৩ সুইডিশ অ্যাকাডেমি ঘোষণা করে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার — এশিয়ার প্রথম। ব্রিটিশ সরকার ১৯১৫-তে তাঁকে নাইট উপাধি দেয়; ১৯১৯-এর ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৩১ মে তিনি লর্ড চেমসফোর্ডকে চিঠি লিখে সেই উপাধি ফিরিয়ে দেন।
১৯১৮-র ২৩ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর ভিত্তি স্থাপিত হয় — যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পরের বছরগুলোয় তিনি ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরে অর্থ তোলেন। ১৯৩০-এ অক্সফোর্ডে হিবার্ট বক্তৃতা, প্যারিস ও লন্ডনে তাঁর ছবির প্রদর্শনী, আর ১৪ এপ্রিল আইনস্টাইনের সঙ্গে সেই বিখ্যাত কথোপকথন — সত্তরের দোরগোড়ায় তিনি নতুন করে চিত্রকর।
শেষ লেখা
জীবনের শেষ দশকে তাঁর কলম থামেনি — পুনশ্চ (১৯৩২) আর শেষ সপ্তক (১৯৩৫)-এ গদ্যকবিতার নতুন পথ, তারপর প্রান্তিক (১৯৩৮)। ১৯৩৭-এ একবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন, সেরে ওঠেন; ১৯৪০-এর শেষে আবার। ৭ আগস্ট ১৯৪১ (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮), যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম, সেখানেই তাঁর মৃত্যু — আশি বছর বয়সে। শেষ কবিতাগুলো তিনি মুখে বলে গেছেন, লিখে দিয়েছেন অন্যরা; শেষ লেখা নামে সেগুলো বই হয়ে বেরোয় তাঁর মৃত্যুর পর।
মৃত্যুর তিরিশ বছর পর, ১৯৭১-এ, তাঁর লেখা আমার সোনার বাংলা হয়ে ওঠে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত — যে দেশের নদী, গ্রাম আর মানুষকে তিনি চিনেছিলেন শিলাইদহের বজরা থেকে।
জানেন কি?
রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ডে আইন পড়তে গিয়ে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই ফিরে এসেছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিগ্রি ছাড়াই তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা — বিশ্বভারতী।
সাধারণ প্রশ্ন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক কোন বইয়ের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?
১৯১২ সালে লন্ডনে প্রকাশিত 'Song Offerings' — গীতাঞ্জলিসহ কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ থেকে বাছাই করা ১০৩টি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ, যা তিনি নিজেই করেছিলেন। ১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর সুইডিশ অ্যাকাডেমি এই বইটির জন্যই তাঁকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়; পুরস্কারের ঘোষণায় তাঁর 'নিজের ইংরেজি ভাষায়' প্রকাশিত কবিতার কথা বলা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন কেন?
১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালায়। এর প্রতিবাদে ৩১ মে তিনি ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডকে চিঠি লিখে ১৯১৫ সালে পাওয়া নাইট উপাধি ফিরিয়ে দেন — চিঠিতে লেখেন, এই প্রতিবাদ তাঁর আতঙ্কিত দেশবাসীর মৌন যন্ত্রণার অভিব্যক্তি।
বাংলা 'গীতাঞ্জলি' আর ইংরেজি 'Song Offerings' কি একই বই?
না। বাংলা 'গীতাঞ্জলি' ১৯১০ সালে প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 'Song Offerings' (১৯১২) তাঁর নিজের করা ১০৩টি কবিতার ইংরেজি গদ্যানুবাদ, যার ৫১টি গীতাঞ্জলি থেকে নেওয়া — বাকিগুলো গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়াসহ আরও কয়েকটি বই থেকে। নোবেল পুরস্কার এসেছিল ইংরেজি বইটির জন্য।
'আমার সোনার বাংলা' কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হলো?
গানটি লেখা হয় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়, বাউল গগন হরকরার একটি গানের সুরে; ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর 'সঞ্জীবনী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়, আর ১৯৭২ সালের সংবিধানে গানটির প্রথম দশ চরণকে জাতীয় সংগীতের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'বিশ্বকবি' ও 'কবিগুরু' বলা হয় কেন?
'বিশ্বকবি' — কারণ তিনিই প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী (১৯১৩), তাঁর লেখা বহু ভাষায় অনূদিত, আর তাঁর গান দুটি রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। 'কবিগুরু' বাঙালির দেওয়া সম্মান — কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, চিত্রকলা ও শিক্ষা, এতগুলো ক্ষেত্রে একসঙ্গে পথ দেখানোর জন্য।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী?
১৮৯০ সাল থেকে পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার জন্য তিনি বছরের বড় সময় কাটাতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আর নওগাঁর পতিসরে — সোনার তরী, গল্পগুচ্ছের বহু গল্প আর ছিন্নপত্রের চিঠি এই পদ্মাপাড়েরই লেখা। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' তাঁর রচনা; শিলাইদহের কুঠিবাড়ি আজ জাদুঘর, আর তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটা খুলনার রূপসার পিঠাভোগে।


