Politician · Bangladesh
জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু
জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু (১৯৫৪–২০২১) ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। তিনি দুই মেয়াদে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবং এরশাদ সরকারের সময় একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
Wikimedia Commonsজিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু — পূর্ণ জীবনী
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন আবুল কাশেম চৌধুরী এবং মাতা নূর মহল বেগম।
তাঁর প্রথম স্ত্রী অধ্যাপক ফরিদা সরকার ২০০৫ সালে ক্যান্সারে মারা যান। তাঁদের সন্তান ছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মেহেজাবুন্নেসা রহমানকে বিয়ে করেন, যিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মীয় ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
বাবলু ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিও লাভ করেন।
ছাত্ররাজনীতি
ছাত্রজীবন থেকেই জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৪–১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৯–১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন এবং ১৯৮১–১৯৮৩ সময়কালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
এরশাদ সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক জীবন
ডাকসুর জিএস থাকা অবস্থায় ১৯৮৩ সালে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপর তিনি সরকারের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৫ সালে তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে বন্দর ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রী এবং অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭–১৯৮৮ সময়কালে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু এরশাদ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য
১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রামের একটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৪–২০১৯ মেয়াদে সংসদে দায়িত্ব পালন করেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব
জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব নিযুক্ত হন এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। পরে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই তিনি আবার দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা
২০১৩ সালের নভেম্বরে বাবলু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও মর্যাদাসহ ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক ভূমিকা
জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
মৃত্যু
২০২১ সালের আগস্টে বাবলুর করোনা শনাক্ত হয় এবং তিনি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২১ সালের ২ অক্টোবর সকাল ৯টা ১২ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৬ বছর।
তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা শোক প্রকাশ করেন। পরে তাঁকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে উঠে এসে তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন, সংসদ সদস্য হন এবং দুই দফায় জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের এরশাদ-পরবর্তী ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
জানেন কি?
তিনি ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেন এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৮–১৯৯০ সালে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ ও ২০২০ সালে তিনি দুই দফায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব হন। ২০২১ সালের ২ অক্টোবর করোনা-পরবর্তী চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

