Biography

Diplomat · Bangladesh

ত্রিদিব রায়

রাজা ত্রিদিব রায় ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সার্কেলের ৫০তম রাজা, পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও লেখক। তিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানেই থেকে যান।

ত
৭৯বয়স

ত্রিদিব রায়

01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্ম ও পরিবার

ত্রিদিব রায় ১৪ মে ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে চাকমা রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন রাজা নলিনাক্ষ রায় এবং মা বিনীতা রায়। তিনি চাকমা রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।

চাকমা রাজা

১৯৫৩ সালের ২ মে ত্রিদিব রায় চাকমা সার্কেলের ৫০তম রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। তিনি ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। তাঁর শাসনামলে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিতে পরিণত হন।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ত্রিদিব রায় চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের একটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভা/জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে; তিনি তা গ্রহণ করেননি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তানে অবস্থান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি নতুন রাষ্ট্রে ফিরে না এসে পাকিস্তানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং চাকমা রাজার পদও ত্যাগ করেন। তাঁর ছেলে দেবাশীষ রায় পরবর্তীতে চাকমা সার্কেলের রাজা হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তান সরকার তাঁকে আজীবন ফেডারেল মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়। তিনি পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের প্রচেষ্টার বিরোধিতায় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেন।

পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ত্রিদিব রায় জুলফিকার আলী ভুট্টোর মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে একজন বৌদ্ধ ও অমুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।

কূটনৈতিক জীবন

১৯৮১ সালে ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আর্জেন্টিনায় নিয়োগ পান। একই সময়ে তিনি চিলি, পেরু, উরুগুয়ে ও ইকুয়েডরের সঙ্গেও কূটনৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।

লেখালেখি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়

ত্রিদিব রায় লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে The Departed Melody, South American Diary এবং একটি ছোটগল্প সংকলনের কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি পাকিস্তানের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত Pakistan Buddhist Society-এর নেতৃত্ব দেন।

২০০৫ সালে পাকিস্তানের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে তাঁকে Ranjana Award প্রদান করা হয়।

মৃত্যু

ত্রিদিব রায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন সংবাদসূত্রে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৯ বছর।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ত্রিদিব রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্র। তিনি একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজপরিবারের ৫০তম রাজা ছিলেন, অন্যদিকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানের মন্ত্রী ও কূটনীতিক হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষ আলোচিত।

জানেন কি?

ত্রিদিব রায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত অল্প কয়েকজন আওয়ামী লীগ-বহির্ভূত প্রতিনিধির একজন ছিলেন এবং পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে একাধিক দেশে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও রাজনীতিবিদ