Biography

Politician · Bangladesh

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং একাধিকবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীWikimedia Commons
৮৭বয়স
১পুরস্কার

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্ম ও পরিবার

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ৮ মে ১৯৩৫ সালে মাগুরা জেলায় তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। তাঁর স্বামী ছিলেন রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। তাঁদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে ছিল।

শিক্ষাজীবন

সাজেদা চৌধুরী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন সম্পর্কে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিস্তারিত তথ্য সীমিত।

রাজনৈতিক জীবন

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৫৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদেও তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাজেদা চৌধুরী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ে সাজেদা চৌধুরী দলকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা এবং তাঁর দেশে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও সাজেদা চৌধুরী ও তাঁর স্বামীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।

তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।

সংসদ সদস্য

সাজেদা চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি ফরিদপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় পরিবেশ ও বন সংরক্ষণসংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জাতীয় সংসদের উপনেতা

২০০৯ সালে সাজেদা চৌধুরী জাতীয় সংসদের উপনেতা নিযুক্ত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদেও তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ইউনেস্কো ফেলোশিপ লাভ করেন। একই সময়ে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে তিনি ‘সিলভার এলিফ্যান্ট’ সম্মাননা পান। ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত করে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।

মৃত্যু

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং স্বাধীনতার পর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন। তিনি বাংলাদেশের নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী ছিলেন।

জানেন কি?

তিনি ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম ও একমাত্র নারী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৮৬–১৯৯২ সময়কালে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের উপনেতা ছিলেন।

আরও রাজনীতিবিদ