Politician · Bangladesh
সুলতানা কামাল
সুলতানা কামাল বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
Wikimedia Commonsসুলতানা কামাল
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
সুলতানা কামাল ১৯৫০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কামাল উদ্দিন আহমদ খান এবং মা ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক সুফিয়া কামাল। তিনি এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যেখানে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল।
শিক্ষাজীবন
তিনি আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। এরপর নেদারল্যান্ডসের Institute of Social Studies থেকে নারী ও উন্নয়ন বিষয়ে Development Studies-এ মাস্টার্স করেন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সুলতানা কামাল সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আগরতলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী নার্সের কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি ও তাঁর বোন সৈয়দা কামাল বিশেষ প্রশংসাপত্র লাভ করেন।
কর্মজীবন
সুলতানা কামাল কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। পরে বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানির আইন বিভাগে কাজ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি সিলেটের খাদিমনগরে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হন। পরবর্তীতে হংকংয়ে ভিয়েতনামি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের আইনগত পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন।
মানবাধিকার কর্মকাণ্ড
সুলতানা কামাল বাংলাদেশের নারী অধিকার ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি সেপ্টেম্বর ২০০১ থেকে মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তিনি মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।
নারীর অধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
২০০৬ সালের অক্টোবরে সুলতানা কামাল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি আরও কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে পদত্যাগ করেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে John Humphrey Freedom Award এবং Anannya Top Ten Award উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান ও সামাজিক ভূমিকা
সুলতানা কামাল মানবাধিকার, নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং নাগরিক সমাজের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি Centre for Policy Dialogue-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং Transparency International Bangladesh-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন হিসেবে উল্লেখিত।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
সুলতানা কামাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, নারী অধিকার ও মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ বাংলাদেশের নাগরিক সমাজে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রেখেছে।
জানেন কি?
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সুলতানা কামাল আগরতলার বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় কাজ করেন।

