Politician · Bangladesh
শেখ রেহানা
শেখ রেহানা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
Wikimedia Commonsশেখ রেহানার পূর্ণ জীবনী
শেখ রেহানা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কন্যা। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন।
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
শেখ রেহানা ১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে অন্যতম। তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত।
শেখ রেহানার শৈশব ও পারিবারিক জীবন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য
শেখ রেহানার পরিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচিত।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরও শেখ রেহানার পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক ঘটনা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। সেই সময় শেখ রেহানা ও তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।
এই ঘটনার পর শেখ রেহানা দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেন। তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্মান্তিক অধ্যায়।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
শেখ রেহানা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে না থাকলেও দলীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাস ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
১৯৮০-এর দশকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
১৯৮০-এর দশকে শেখ রেহানা তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক আন্দোলনে শেখ রেহানারও ভূমিকা ছিল।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
শেখ রেহানার রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে তাঁর অবস্থান। তাঁর পরিবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনও দেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
তিনি নিজে সাধারণত সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেননি। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর মতামত ও ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন
শেখ রেহানা ব্যক্তিজীবনে আবদুল ওয়াজেদ মিয়া (শফিক সিদ্দিক)–এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সন্তানদের মধ্যে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি উল্লেখযোগ্য।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত জীবনকে তুলনামূলকভাবে আড়ালে রেখে পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্ব
শেখ রেহানা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হলেও তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা এবং শেখ হাসিনার ছোট বোন হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর জীবন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর পরিবার, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ রাজনীতির ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
উত্তরাধিকার
শেখ রেহানার জীবনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে তাঁর পরিচয় এবং ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পর বেঁচে থাকা পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর ভূমিকা তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ অবস্থানে রেখেছে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবে তাঁর অবস্থান বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য।
জানেন কি?
শেখ রেহানা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং শেখ হাসিনার ছোট বোন।

