Politician · Bangladesh
শেখ মুজিবুর রহমান
শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০–১৯৭৫) — বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী; ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আর ১৯৭০-এর নির্বাচন থেকে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা, ১৯৬৯-এ ছাত্রদের দেওয়া 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে পরিচিত।
Wikimedia Commonsশেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী — যে রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত আড়াই দশকের রাজনীতিতে। ১৯৬৯ সালে ছাত্রদের দেওয়া বঙ্গবন্ধু উপাধিতেই তিনি বেশি পরিচিত। জীবনের বড় একটা অংশ কেটেছে কারাগারে; শেষ হয়েছে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ ভোরে, সেনা অভ্যুত্থানে, নিজের বাড়িতে।
পদ ও দায়িত্ব
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 1975 | বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি | ২৫ জানুয়ারি – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ |
| 1972–1975 | বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী | ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫ |
| 1971–1972 | রাষ্ট্রপতি, মুজিবনগর সরকার (পুরো মেয়াদ পাকিস্তানে বন্দি) | ১০ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ |
| 1966–1974 | আওয়ামী লীগের সভাপতি | ১ মার্চ ১৯৬৬ – ১৮ জানুয়ারি ১৯৭৪ |
| 1956–1957 | পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী | ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ – ৩০ মে ১৯৫৭ |
| 1955–1958 | পাকিস্তান গণপরিষদ ও জাতীয় পরিষদের সদস্য | ৫ জুন ১৯৫৫ – ৭ অক্টোবর ১৯৫৮ |
| 1954 | পূর্ববঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার কৃষি ও বনমন্ত্রী | ১৫ – ২৯ মে ১৯৫৪ |
গ্রন্থপঞ্জি
| Year | Work | Form | Translated as |
|---|---|---|---|
| 2012 | অসমাপ্ত আত্মজীবনী | আত্মজীবনী | Asamapta Atmajibani |
| 2017 | কারাগারের রোজনামচা | দিনলিপি | Karagarer Rojnamcha |
| 2020 | আমার দেখা নয়াচীন | ভ্রমণকাহিনী | Amar Dekha Naya Chin |
কর্মজীবনের সময়রেখা
- 1920
১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম; বাবা শেখ লুৎফুর রহমান, মা সায়েরা খাতুন
- 1934
চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য পড়াশোনায় চার বছরের ছেদ
- 1947
কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক; দেশভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ভর্তি
- 1948
১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘটের দিন ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার
- 1949
২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা, কারাগারে থেকেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত; একই বছর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্বের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার (২০১০-এ প্রত্যাহৃত)
- 1952
ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে কারাগারে; ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তেরো দিনের অনশন, ২৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি
- 1953
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত (১৯৬৬ পর্যন্ত)
- 1954
১০ মার্চ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ থেকে জয়ী; ১৫–২৯ মে এ কে ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় কৃষি ও বনমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সরকার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়
- 1956
১৬ সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খানের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী; ১৯৫৭-র মে-তে দলীয় কাজে সময় দিতে পদত্যাগ
- 1966
৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ছয় দফা পেশ; ১ মার্চ আওয়ামী লীগের সভাপতি; পরে গ্রেপ্তার হয়ে দুই বছর কারাবাস
- 1968
৩ জানুয়ারি ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের, তিনি প্রধান আসামি
- 1969
গণঅভ্যুত্থানের মুখে মামলা প্রত্যাহার, ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি; ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন
- 1970
৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ আসনের ১৬৭টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী, জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ
- 1971
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ; ২৫ মার্চ রাতে সেনা অভিযান, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তাঁর নামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত, একই রাতে ধানমন্ডির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার
- 1971
পশ্চিম পাকিস্তানের লায়ালপুর (ফয়সালাবাদ) কারাগারে নিঃসঙ্গ বন্দি; ১৯ জুলাই গোপন সামরিক আদালতে বিচারের ঘোষণা, ৪ ডিসেম্বর অপ্রকাশিত রায়ে মৃত্যুদণ্ড; ১৩ ডিসেম্বর মিয়ানওয়ালি কারাগারে স্থানান্তর
- 1971
১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রপতি ঘোষিত, মুজিবনগর সরকার গঠিত; পুরো মেয়াদ পাকিস্তানে বন্দি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
- 1972
৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে, প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে বৈঠক; দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ও রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ
- 1972
১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন; ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ, রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
- 1972
৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত, ১৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষর, ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর; সংসদীয় শাসন ও চার মূলনীতি — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
- 1973
২৩ মে ঢাকায় এশীয় শান্তি ও নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্রের হাত থেকে জুলিও-কুরি শান্তি পদক গ্রহণ
- 1973
৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন; ৩০০ আসনের ২৯৩টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী, শেখ মুজিব ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচিত হয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী
- 1974
১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য; ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলায় ভাষণ — জাতিসংঘে প্রথম বাংলা ভাষণ
- 1975
২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস: সংসদীয় থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা, শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতি, মনসুর আলী প্রধানমন্ত্রী; ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশে অন্য সব দল বিলুপ্ত করে একক জাতীয় দল বাকশাল গঠন
- 1975
১৫ আগস্ট ভোরে সেনা অভ্যুত্থানে ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়িতে সপরিবারে নিহত: স্ত্রী, পুত্র কামাল, জামাল, রাসেল, দুই পুত্রবধূ ও ভাই আবু নাসেরসহ; পশ্চিম জার্মানিতে থাকা কন্যা হাসিনা ও রেহানা বেঁচে যান; ১৬ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ায় দাফন
জীবনী
টুঙ্গিপাড়া থেকে কলকাতা
জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় — শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়েরা খাতুনের সন্তান। ১৯৩৪ সালে চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য পড়াশোনায় চার বছরের ছেদ পড়ে। ১৯৪২-এ গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, তারপর কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (আজকের মৌলানা আজাদ কলেজ) — সেখান থেকেই ১৯৪৭-এ ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। কলকাতার এই বছরগুলোতেই মুসলিম লীগের ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছায়ায়।
ভাষা আন্দোলন থেকে আওয়ামী লীগ
দেশভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়তে ভর্তি হন। ১১ মার্চ ১৯৪৮ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘটের দিন সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার। পরের বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়; সেই বহিষ্কারাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাহার করে ২০১০ সালে, তাঁর মৃত্যুর পঁয়ত্রিশ বছর পর।
২৩ জুন ১৯৪৯ ঢাকার রোজ গার্ডেনে মাওলানা ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়; শেখ মুজিব তখন জেলে, তবু দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫২-র ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে তিনি কারাগারে — ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তেরো দিনের অনশন, মুক্তি ২৬ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫৩-এ দলের সাধারণ সম্পাদক; ১৯৫৪-র ১০ মার্চ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ থেকে জয়ী হয়ে এ কে ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় কৃষি ও বনমন্ত্রী — মাত্র দু'সপ্তাহের মন্ত্রিসভা, কেন্দ্র সেটি ভেঙে দেয়। ১৯৫৫-য় পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য, ১৯৫৬–৫৭-এ আতাউর রহমান খানের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী।
ছয় দফা, আগরতলা, ঊনসত্তর
১৯৫৮-য় আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর আবার কারাবন্দি। ১৯৬৬-র ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে তিনি পেশ করেন ছয় দফা — পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি; ১ মার্চ আওয়ামী লীগের সভাপতি। ছয় দফার পর গ্রেপ্তার হয়ে দুই বছর জেলে থাকতে থাকতেই ১৯৬৮-র ৩ জানুয়ারি তাঁকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। মামলার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, সেটাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান; আইয়ুব সরকার মামলা প্রত্যাহার করে ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ তাঁকে মুক্তি দেয়। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ তাঁকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধি দেন।
সত্তরের নির্বাচন থেকে একাত্তর
৭ ডিসেম্বর ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৯ আসনের ১৬৭টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী — পুরো পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ভাষণ। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় অভিযান শুরু করে; ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তাঁর নামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়, আর সেই রাতেই ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ন'মাস তিনি লায়ালপুর ও মিয়ানওয়ালির কারাগারে, নিঃসঙ্গ; গোপন সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও তা কার্যকর হয়নি। ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় — যে পদে পুরো সময়টা তিনি ছিলেন অনুপস্থিত।
স্বাধীন বাংলাদেশে
৮ জানুয়ারি ১৯৭২ মুক্তি; লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় ফেরেন। দু'দিন পর রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ। তাঁর সরকারের সময়েই ৪ নভেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়; ৭ মার্চ ১৯৭৩-এর প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ৩০০ আসনের ২৯৩টি। ১৯৭৩-এর মে-তে বিশ্ব শান্তি পরিষদের জুলিও কুরি শান্তি পদক, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলা ভাষণ।
২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সংসদীয় ব্যবস্থার জায়গায় আসে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা — তিনি রাষ্ট্রপতি; ২৪ ফেব্রুয়ারি অন্য সব দল বিলুপ্ত করে একক জাতীয় দল বাকশাল গঠিত হয়। এর ছ'মাস পর, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ ভোরে, সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তার অভ্যুত্থানে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে তিনি সপরিবারে নিহত হন — স্ত্রী, তিন পুত্র কামাল, জামাল ও রাসেল, দুই পুত্রবধূ, ভাই। বেঁচে যান পশ্চিম জার্মানিতে থাকা দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরদিন টুঙ্গিপাড়ায় তাঁকে দাফন করা হয়।
তাঁর হাতে লেখা তিনটি খাতা বই হয়ে বেরোয় মৃত্যুর বহু বছর পর — অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২), কারাগারের রোজনামচা (২০১৭) আর আমার দেখা নয়াচীন (২০২০)।
জানেন কি?
১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেও পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে — নিজের রাষ্ট্রের অস্তিত্বের খবরই তিনি পান মুক্তির পর, ১৯৭২-এর জানুয়ারিতে।
সাধারণ প্রশ্ন
শেখ মুজিবুর রহমান 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি কবে, কার কাছ থেকে পান?
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির পরদিন। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আয়োজিত জনসভায় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ তাঁকে এই উপাধি দেন।
ছয় দফা কী, কবে ঘোষিত হয়?
পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের ছয়টি দাবি — কেন্দ্রের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র রেখে বাকি ক্ষমতা প্রদেশের হাতে, আলাদা মুদ্রা বা হিসাব, কর আদায়ের অধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার নিয়ন্ত্রণ, নিজস্ব আধাসামরিক বাহিনী। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে তিনি এটি পেশ করেন।
১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কত আসন পেয়েছিল?
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় — যা গোটা পরিষদেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা। প্রাদেশিক পরিষদেও দলটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব কোথায় ছিলেন?
১৯৭১ সালের ২৫–২৬ মার্চ রাতে ধানমন্ডির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে নেওয়া হয় তাঁকে; পুরো যুদ্ধের ন'মাস তিনি লায়ালপুর ও মিয়ানওয়ালির কারাগারে বন্দি ছিলেন। গোপন সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও তা কার্যকর হয়নি। মুক্তি পান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি, ঢাকায় ফেরেন ১০ জানুয়ারি।
শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই কী কী?
তিনটি — সবই তাঁর হাতে লেখা খাতা থেকে, মৃত্যুর বহু পরে প্রকাশিত: 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' (২০১২, ১৯৫৪ পর্যন্ত জীবনের কথা), 'কারাগারের রোজনামচা' (২০১৭, ১৯৬৬–৬৮-র কারাজীবনের দিনলিপি) আর 'আমার দেখা নয়াচীন' (২০২০, ১৯৫২-র চীন সফর)।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ কী হয়েছিল?
ভোরে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে — স্ত্রী, তিন পুত্র, দুই পুত্রবধূ ও ভাইসহ। পশ্চিম জার্মানিতে থাকা দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন।

