Politician · Bangladesh
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (বঙ্গমাতা)
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ আগস্ট ১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল রেণু। শৈশবেই তিনি পিতামাতাকে হারান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে বেড়ে ওঠেন। ১৯৩৮ সালে মাত্র আট বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকট ও সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক ও নৈতিক সহায়তা দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তিনি নিহত হন।
Wikimedia Commonsশেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, যিনি বঙ্গমাতা নামে পরিচিত, ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী। তিনি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী এবং শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলের মা। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় তিনি পরিবারকে সামলে রাখার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও পারিবারিক সহায়তা প্রদান করেন।
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 1975 | First Lady of Bangladesh | 6 mo |
| 1972—1975 | Spouse of the Prime Minister of Bangladesh | 3 yr |
| 1971—1972 | First Lady of Bangladesh | 9 mo |
জীবনী
জন্ম ও শৈশব
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৮ আগস্ট ১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল রেণু। তাঁর পিতার নাম শেখ জহুরুল হক এবং মাতার নাম শেখ হোসনে আরা বেগম।
শৈশবেই তিনি পিতা-মাতাকে হারান। বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে উল্লেখ আছে, তাঁর মা মারা যান যখন রেণুর বয়স মাত্র পাঁচ বছর। এরপর তাঁর দাদাও মারা যান যখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় সাত বছর। পরে তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়ে ওঠেন।
বিবাহ ও পারিবারিক জীবন
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পরস্পরের আত্মীয়। ১৯৩৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। সে সময় রেণুর বয়স ছিল মাত্র আট বছর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের বয়স ছিল ১৮ বছর। পরবর্তী সময়ে তাঁদের পারিবারিক জীবন শুরু হয় এবং তাঁরা পাঁচ সন্তানের বাবা-মা হন।
তাঁদের সন্তানরা হলেন—শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেল। পরিবারের সন্তানদের লালন-পালন ও পারিবারিক দায়িত্বের বড় অংশ তিনি নিজেই সামলাতেন, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত ও কারাবন্দি থাকার সময়।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে ভূমিকা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবরণ ও নানা রাজনৈতিক সংকটে পরিপূর্ণ। এসব সময় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিবারকে আগলে রাখেন এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশে থাকেন।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় তাঁকে বঙ্গবন্ধুর সংকটের সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে থাকতেন, তখন সংসার পরিচালনা, সন্তানদের দেখাশোনা এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে শক্ত রাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর ছিল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের ওপর কঠোর নজরদারি ও গৃহবন্দিত্ব ছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন।
তাঁর স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরিবারের দুই ছেলে শেখ কামাল ও শেখ জামাল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখার দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।
বঙ্গবন্ধুর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী হিসেবে নয়, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের একজন ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সহযাত্রী হিসেবে স্মরণীয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় তাঁর ধৈর্য, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং সংকটের সময় পরিবারের পাশে থাকার জন্য।
তাঁর জীবন ছিল মূলত পরিবারকেন্দ্রিক হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো তাঁর পারিবারিক জীবন ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও নিহত হন। তাঁর সঙ্গে তাঁর তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
মৃত্যু
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ঢাকায় নিজ বাসভবন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মরদেহ পরে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্মরণ ও উত্তরাধিকার
বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ‘বঙ্গমাতা’ নামে স্মরণীয়। তাঁর জন্মদিন ৮ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়ে আসছে। তাঁর জীবন ও ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা, স্মরণসভা, প্রকাশনা ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হয়েছে।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় পরিবারকে ধরে রাখা, সন্তানদের লালন-পালন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে আছে।
জানেন কি?
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ডাকনাম ছিল রেণু। তিনি ৮ আগস্ট ১৯৩০ সালে টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৮ সালে মাত্র আট বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিনি শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলের মা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে তিনি নিহত হন।

