Politician · Bangladesh
শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
Wikimedia Commonsশফিকুর রহমান
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
ডা. শফিকুর রহমান ৩১ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে তৎকালীন সিলেট জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবরু মিয়া এবং মাতার নাম খাতিবুন নেসা। তিনি চিকিৎসক ডা. আমিনা শফিকুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
শিক্ষাজীবন
তিনি ১৯৭৪ সালে বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেটের মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর সিলেট মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্ররাজনীতি
শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রজীবনে। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। পরে তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখা এবং সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি
১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এরপর দলটির সিলেট জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য হন। ১৯৮৬–১৯৮৮ সালে সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি, ১৯৮৯–১৯৯১ সালে নায়েবে আমির এবং ১৯৯১–১৯৯৮ সালে সিলেট জেলা আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ছিলেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
২০০০-এর দশকের শেষ দিকে শফিকুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন। ২০১০ সালে তিনি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে সেক্রেটারি জেনারেল হন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন।
২০২২ সালে তিনি ২০২৩–২০২৫ মেয়াদের জন্য দ্বিতীয়বার আমির নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালে তিনি ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য আবারও আমির নির্বাচিত হন এবং ২৮ নভেম্বর ২০২৫ শপথ নেন।
চিকিৎসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড
রাজনীতির পাশাপাশি শফিকুর রহমান চিকিৎসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবনীতে বিভিন্ন শিক্ষা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এবং এতিমখানা, মসজিদ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নেয় এবং তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হন।
রাজনৈতিক অবস্থান ও বিতর্ক
শফিকুর রহমান ও তাঁর দল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলে। একই সঙ্গে দলটির ঐতিহাসিক অবস্থান, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক রয়েছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
শফিকুর রহমান বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেতৃত্ব থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি, দলীয় সংগঠন এবং জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন।
জানেন কি?
* ডা. শফিকুর রহমান ৩১ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে কুলাউড়া, মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। * তিনি ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। * ১৯৭৭ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। * ১৯৮৪ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। * ২০১৯ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন। * ২০২৫ সালে তিনি ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য তৃতীয়বার আমির নির্বাচিত হন। * ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। * ২০২৬ সালে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হন।

