Biography

Politician · Bangladesh

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় সরকার, জনপ্রশাসন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামWikimedia Commons
৬৭বয়স

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্ম ও পরিবার

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যিনি ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

শিক্ষাজীবন

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ময়মনসিংহে শিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের দেরাদুনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং মুক্তিবাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

লন্ডনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ চার জাতীয় নেতা নিহত হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখাকে সংগঠিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পূর্ণভাবে যুক্ত হন।

সংসদীয় ও রাজনৈতিক জীবন

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

২০০৯ সালে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী

২০১৫ সালের জুলাইয়ে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অসুস্থতার কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় অনুপস্থিত থাকলেও কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাঁর সরল জীবনযাপন, সংযত বক্তব্য, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ব্যক্তিগত সততার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রাজনৈতিক সৌজন্য ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন।

মৃত্যু

২০১৮ সালে তাঁর ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৩ জানুয়ারি ২০১৯ রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৭ বছর।

তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাঁর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, আওয়ামী লীগের সংগঠন শক্তিশালী করার ভূমিকা এবং দীর্ঘ সময় জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান তৈরি করেন।

জানেন কি?

তিনি জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ২০০৯–২০১৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অসুস্থ অবস্থায়ও কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ৩ জানুয়ারি ২০১৯ সালে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও রাজনীতিবিদ