Politician · Bangladesh
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (১৯৪৯–২০১৫) ছিলেন বাংলাদেশের বিএনপির রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সদস্য। তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং খালেদা জিয়ার সরকারের সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী — পূর্ণ জীবনী
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৩ মার্চ ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এ. কে. এম. ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও তৎকালীন পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন সেলিমা কাদের চৌধুরী। তিনি ছিলেন পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ।
শিক্ষাজীবন
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের সাদিক পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকার নটর ডেম কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
রাজনৈতিক জীবন
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
সংসদ সদস্য
তিনি ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম-৬ ও চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকেও নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৭ থেকে নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। বিভিন্ন সূত্রে তাঁকে ছয় বা সাতবারের সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রী ও সরকারি দায়িত্ব
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দুটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।
২০১৫ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আপিলের রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আদালত নয়টি অভিযোগের মধ্যে একটি থেকে তাঁকে খালাস দেয় এবং বাকি আটটি অভিযোগে বিভিন্ন সাজা বহাল রাখে; এর মধ্যে চারটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল ছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই রাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
দাফন
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাঁর মরদেহ চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা গ্রামের পারিবারিক বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন এবং সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিচার, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ২০১৫ সালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত ঘটনা হয়ে আছে।
জানেন কি?
তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। ২২ নভেম্বর ২০১৫ ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

