Biography

Politician · Bangladesh

সজীব ওয়াজেদ জয়

সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও প্রযুক্তিবিষয়ক ব্যক্তিত্ব। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরমাণু বিজ্ঞানী এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে এবং ২০১৪–২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়Wikimedia Commons
৫৫বয়স

সজীব ওয়াজেদ জয়

01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্ম ও পরিবার

সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ২৭ জুলাই ১৯৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া এবং মা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নানা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নানি বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। তাঁর বোন সায়মা ওয়াজেদ।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাঁর পরিবার বিদেশে অবস্থান করায় তিনি ও তাঁর মা-বাবা প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তিনি বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অধ্যয়ন করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রযুক্তি ও জনজীবনে সম্পৃক্ততা

সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে কাজ করেন। আওয়ামী লীগের ভিশন ২০২১ ও “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণার প্রচার ও বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথা দলীয় ও সরকারি সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাঁকে Young Global Leader হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

রাজনৈতিক জীবন

২০০৯ সালের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রকাশ্য ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়। ২০১০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রংপুর জেলা শাখার প্রাথমিক সদস্য হন। একই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বেচ্ছাসেবী ও অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা

২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। তাঁর দায়িত্বকালে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগে তিনি যুক্ত ছিলেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ

বাংলাদেশের সরকারি সেবা ও অর্থনীতিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম বিশেষভাবে যুক্ত। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” রূপকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও নাগরিকত্ব

সজীব ওয়াজেদ দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সময় ভাগ করে জনজীবনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বলে প্রকাশিত জীবনীসংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন

সজীব ওয়াজেদ ২০০২ সালে ক্রিস্টিন ওভারমিয়ারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। পরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়; ২০২৫ সালের একটি প্রকাশ্য বক্তব্যে তিনি জানান যে তাঁরা প্রায় তিন বছর আগে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন এবং বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলা ও আইনি বিষয়

২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সজীব ওয়াজেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পূর্বাচল-সংক্রান্ত একটি দুর্নীতি মামলায় একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এসব আইনি বিষয় রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও আদালতের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটসহ উপস্থাপন করা উচিত।

বর্তমান পরিচয়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সজীব ওয়াজেদ আর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা পদে নেই। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। বিশেষ করে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” রূপকল্পের প্রচার, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং সরকারি ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের আলোচনায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখ করা হয়।

জানেন কি?

সজীব ওয়াজেদ জয় ২৭ জুলাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হন।

আরও রাজনীতিবিদ