Politician · Bangladesh
রুমিন ফারহানা
রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। তিনি ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিবিদ অলি আহাদের কন্যা। ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।
Wikimedia Commonsরুমিন ফারহানা — পূর্ণ জীবনী
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 2026— | Member of the Parliament of Bangladesh | — |
| 2019—2022 | Member of the Parliament of Bangladesh | 3 yr |
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
রুমিন ফারহানা ১৯ আগস্ট ১৯৮১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা অলি আহাদ ছিলেন ভাষাসৈনিক ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তাঁর মা রাশিদা বেগম ছিলেন শিক্ষাবিদ।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর পিতা অলি আহাদ ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষাজীবন
রুমিন ফারহানা হলিক্রস স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
আইন পেশা
শিক্ষাজীবন শেষে রুমিন ফারহানা বাংলাদেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হন। ২০০৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার এম. জহিরের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের সঙ্গে কাজ করেন এবং ২০০৯ সাল থেকে স্বাধীনভাবে আইন পেশা পরিচালনা করেন।
তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং আইন পেশার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
রুমিন ফারহানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি দলটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক বক্তব্য, টেলিভিশন আলোচনা এবং সংসদীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে পরিচিতি লাভ করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবার
২০১৯ সালে বিএনপি তাকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দেয়। ২৮ মে ২০১৯ নির্বাচন কমিশন তাঁকে সংরক্ষিত নারী আসন-৫০ থেকে নির্বাচিত ঘোষণা করে এবং ৯ জুন তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
সংসদে তিনি বিএনপির একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর সংসদীয় বক্তব্যে নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
সংসদ থেকে পদত্যাগ
রুমিন ফারহানা ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংরক্ষিত নারী আসন-৫০ শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তী উপনির্বাচনে ওই আসনে নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৬ সালের নির্বাচন
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি আবার জাতীয় সংসদে ফিরে আসেন।
২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় আগের বিএনপি-সংশ্লিষ্ট পরিচয় থেকে পরিবর্তিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিফলিত হয়। তাঁর দীর্ঘদিনের বিএনপি-রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি এই নির্বাচনী পরিচয়টি আলাদাভাবে উল্লেখযোগ্য।
লেখালেখি ও গণমাধ্যম
আইন ও রাজনীতির পাশাপাশি রুমিন ফারহানা লেখালেখি ও গণমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নামে “আমাদের রোজনামচা” বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কলাম, মতামত ও বক্তব্য দিয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিচিতি
রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের সমকালীন নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচিত একটি নাম। আইন পেশার অভিজ্ঞতা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন একই সঙ্গে বিএনপির বিরোধী রাজনীতি এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের স্বতন্ত্র সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিবিদ অলি আহাদের কন্যা হিসেবে একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করেছেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং ২০২৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে আবার সংসদে ফিরেছেন।
জানেন কি?
রুমিন ফারহানা ১৯ আগস্ট ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিবিদ অলি আহাদ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন পড়েন এবং লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৯ সালে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

