Politician · Bangladesh
মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী
মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় নেতা। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব এবং জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদিস ও মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর পূর্ণ জীবনী
মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় বক্তা ও সংগঠক। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ও হাদিসের অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জীবনী
জন্ম ও শৈশব
নূর হোসাইন কাসেমী ১৯৪৫ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জের চড্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষা নিজ এলাকার ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
শিক্ষাজীবন
তিনি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর কাশীপুর কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা এবং বরুড়ার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন।
উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা অর্জনের জন্য তিনি ভারতে যান এবং দারুল উলুম দেওবন্দে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি হাদিসে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আরবি সাহিত্য ও দর্শন অধ্যয়ন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে উপমহাদেশের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান ইসলামি আলেম ছিলেন।
শিক্ষকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা
শিক্ষাজীবন শেষে নূর হোসাইন কাসেমী দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা ও ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসায় হাদিসের পাঠদান করেন এবং বহু শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করেন।
তিনি ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার প্রতিষ্ঠাকালীন মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জামিয়া সোবহানিয়া মাহমুদ, নগর-এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
নূর হোসাইন কাসেমী ১৯৭৫ সালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ
নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। তিনি সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব নির্বাচিত হন। তবে এই পদে তাঁর দায়িত্বকাল ছিল অল্প সময়ের—মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় এক মাস।
কওমি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় সংগঠনে ভূমিকা
কাসেমী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় পদে ছিলেন।
তিনি প্রায় ৪৫টি মাদ্রাসার শিক্ষা ও পরিচালন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকা
নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতে ইসলাম এবং খতমে নবুয়ত আন্দোলনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মৃত্যু
নূর হোসাইন কাসেমী ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। তিনি ১ ডিসেম্বর শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
তাঁকে ঢাকার তুরাগ এলাকার জামিয়া সোবহানিয়া মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উত্তরাধিকার
নূর হোসাইন কাসেমী বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা, ইসলামি রাজনীতি ও ধর্মীয় সংগঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষক, শায়খুল হাদিস, মাদ্রাসা সংগঠক এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর বহুমুখী কর্মকাণ্ড তাঁকে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন তাঁর অবদান স্মরণ করে শোক প্রকাশ করে।
জানেন কি?
নূর হোসাইন কাসেমী ১৯৭৫ সালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০২০ সালে মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

