Politician · Bangladesh
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং ২০২৪ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
Wikimedia Commonsমুহাম্মদ হাসান মাহমুদ — পূর্ণ জীবনী
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 2019— | Member of the Parliament of Bangladesh | — |
| 2019— | Minister of Information and Broadcasting | — |
| 2014— | Member of the Parliament of Bangladesh | — |
| 2009—2013 | Minister of Environment, Forest and Climate Change | 3 yr |
| 2009— | Member of the Parliament of Bangladesh | — |
| 2009 | Minister of Foreign Affairs of Bangladesh | 6 mo |
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ ১৯৬৩ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।
তিনি নূরুন ফাতেমা হাসানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের এক কন্যা, নাফিসা জুমাইনা মাহমুদ।
শিক্ষাজীবন
হাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি বেলজিয়ামে পরিবেশবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি লিমবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্ররাজনীতি
ছাত্রজীবন থেকেই হাসান মাহমুদ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বে ছিলেন এবং ১৯৮৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি
১৯৯০-এর দশকে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও সংসদীয় কর্মকাণ্ডে সহায়ক হিসেবে কাজ করেন।
তিনি আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন।
সংসদ সদস্য
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর সংসদীয় রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর হাসান মাহমুদ প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একই বছরের জুলাইয়ে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
২০১১ সালের নভেম্বরে তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই পদে তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি এ কে আব্দুল মোমেনের স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর দায়িত্বকাল ৬ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।
রাজনৈতিক ভূমিকা
হাসান মাহমুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক কাজ। মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি তিনি ২০১৪–২০১৯ সময়কালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
২০২৪ সালের পর
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাসান মাহমুদের মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্যের মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা/তদন্তের খবর প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগকে বিচারিকভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত নয়।
ব্যক্তিগত ও একাডেমিক পরিচয়
রাজনীতির পাশাপাশি হাসান মাহমুদ পরিবেশবিজ্ঞান ও পরিবেশ রসায়ন নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পররাষ্ট্র, পরিবেশ, বন এবং তথ্য ও সম্প্রচার—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তাঁর দায়িত্ব পালন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকার পরিচয় বহন করে।
জানেন কি?
তিনি ১৯৬৩ সালের ৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তিনি ২০১৯–২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

