Politician · Bangladesh
মোহাম্মদ নাসিম
মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন।
Wikimedia Commonsমোহাম্মদ নাসিম
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 2014—2020 | Member of the Parliament of Bangladesh | 6 yr |
| 2014—2019 | Minister of Health and Family Welfare | 4 yr |
| 1999—2001 | Minister of Home Affairs (Bangladesh) | 2 yr |
| 1997—1999 | Minister of Housing and Public Works | 23 mo |
| 1991—2006 | Member of the Parliament of Bangladesh | 15 yr |
| 1986—1987 | Member of the Parliament of Bangladesh | 16 mo |
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
মোহাম্মদ নাসিম ২ এপ্রিল ১৯৪৮ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মায়ের নাম আমেনা মনসুর।
মোহাম্মদ নাসিম লায়লা আরজুমান্দ বীথির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন সন্তান ছিল। তাঁদের ছেলে তানভীর শাকিল জয় পরবর্তীতে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং সিরাজগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শিক্ষাজীবন
মোহাম্মদ নাসিম ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন। কলেজজীবন থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। প্রথমদিকে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ছাত্রলীগে যোগ দেন।
১৯৬৭ সালে তিনি এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক জীবনের শুরু
ষাটের দশকেই মোহাম্মদ নাসিমের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সময় তিনি তাঁর বাবা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সঙ্গে কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ তৎকালীন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুবসম্পাদক, ১৯৮৭ সালে প্রচার সম্পাদক এবং ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মোহাম্মদ নাসিম তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভারতে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শরণার্থীদের সহায়তা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণে ভূমিকা রাখেন। তাঁর পিতা এম মনসুর আলী তখন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।
সংসদীয় জীবন
মোহাম্মদ নাসিম প্রথমবার ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সিরাজগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সূত্রে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে ছয়বার নির্বাচিত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তিনি সিরাজগঞ্জের একাধিক আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
সংসদীয় জীবনে তিনি প্রধান হুইপ এবং বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রিত্ব
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মোহাম্মদ নাসিম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৪ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার সরকারে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৪–২০১৯ মেয়াদে তিনি স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে ছিলেন।
আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটে ভূমিকা
মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকট
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মোহাম্মদ নাসিম গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয় এবং তিনি রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন।
মৃত্যু
২০২০ সালের ১ জুন মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং অস্ত্রোপচার করা হয়।
তিনি ১৩ জুন ২০২০ সালে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছর।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে সক্রিয় থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্যতম ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ছাত্র আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। বিশেষ করে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
জানেন কি?
মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে। তিনি ১৯৮৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়েও একাধিকবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৯৯–২০০১ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৪–২০১৯ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। ১৩ জুন ২০২০ সালে ৭২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

