Politician · Bangladesh
মকবুল আহমদ
মকবুল আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। তিনি ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর দলটির আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। এর আগে তিনি প্রায় ছয় মাস ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মকবুল আহমদের পূর্ণ জীবনী
মকবুল আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। তিনি দলটির তৃতীয় আমির হিসেবে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিল।
জীবনী
জন্ম ও শৈশব
মকবুল আহমদ ১৯৩৯ সালের ২ আগস্ট ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন নাদেরুজ্জামান এবং মাতা আঞ্জিরের নেছা। তিনি পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন।
শৈশব থেকেই তিনি পড়াশোনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন। স্থানীয় মক্তবে কোরআন শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি দাগনভূঞা আতাতুর্ক হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।
শিক্ষাজীবন
মকবুল আহমদ ছাত্রজীবনে মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন বলে তাঁর দলীয় জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি ফেনী কলেজে পড়াশোনা করেন। কলেজজীবনে তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং ১৯৬২ সালে সহপাঠীদের নিয়ে ‘ওমরাবাদ পল্লী মঙ্গল সমিতি’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
কর্মজীবন
মকবুল আহমদ কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের প্রকাশনা বিভাগে কাজ করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন।
তিনি শরিশাদী হাই স্কুলে চার বছর এবং ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলে তিন বছর শিক্ষকতা করেন। বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পড়াতেন।
১৯৭১ সালে তিনি দৈনিক সংগ্রামে বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেন। তাঁর সাংবাদিকতার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল চিংড়ি চাষ নিয়ে প্রতিবেদন।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবন
মকবুল আহমদ কৈশোরেই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ফেনীতে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় আব্দুস সাত্তার নামের একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁকে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুর পর মকবুল আহমদ ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নেন। দলটির সদস্যদের গোপন ভোটে তিনি ২০১৭–২০১৯ মেয়াদের জন্য আমির নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দলটির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে আমির নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক বিতর্ক
মকবুল আহমদের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্কও ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক প্রকাশ্যে আসে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলা হয়।
এই কারণে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গেও যুক্ত।
মৃত্যু
মকবুল আহমদ ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
উত্তরাধিকার
মকবুল আহমদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের সংগঠক ও নেতা হিসেবে দলটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমির হিসেবে তিনি দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন।
তাঁর জীবন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। মৃত্যুর পর ২০২২ সালে জামায়াতে ইসলামী তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘রাহবার’ নামে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করে।
জানেন কি?
মকবুল আহমদ ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নেন। তিনি দলটির তৃতীয় আমির ছিলেন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

