Politician · Bangladesh
লুৎফুজ্জামান বাবর (Lutfozzaman Babar)
জন্ম: ১০ অক্টোবর ১৯৫৮ জন্মস্থান: নেত্রকোনা, বাংলাদেশ পেশা: রাজনীতিবিদ রাজনৈতিক দল: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদীয় আসন: নেত্রকোনা-৪ সাবেক পদ: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিত্বের সময়কাল: ১০ অক্টোবর ২০০১ – ২৯ অক্টোবর ২০০৬ কারামুক্তি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ বর্তমান পরিচয়: বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত
Wikimedia Commonsলুৎফুজ্জামান বাবর — পূর্ণ জীবনী
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
লুৎফুজ্জামান বাবর ১০ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির একজন পরিচিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে সীমিত তথ্য পাওয়া যায়।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
লুৎফুজ্জামান বাবর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেত্রকোনার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত হন।
সংসদীয় জীবন
১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বাবর জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠিত হলে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
১০ অক্টোবর ২০০১ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন।
র্যাব গঠন ও বিতর্ক
বাবরের মন্ত্রিত্বের সময় বাংলাদেশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী বছরগুলোতে র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে। বাবরের রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়নে এই সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং র্যাবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসেবে উঠে আসে।
গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ কারাবাস
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২৮ মে ২০০৭ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দুর্নীতি এবং ২০০৪ সালের চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় বিভিন্ন সময় নিম্ন আদালতে তার সাজা হয়।
২০০৭ সালে অবৈধ অস্ত্র রাখার মামলায় একটি আদালত তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
মামলায় খালাস
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাবর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা এবং চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও তিনি উচ্চ আদালতে খালাস পান। এছাড়া একটি দুর্নীতি মামলায় দেওয়া আট বছরের সাজাও উচ্চ আদালত বাতিল করে তাকে খালাস দেয়।
কারামুক্তি
বিভিন্ন মামলায় খালাস ও জামিন পাওয়ার পর ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ লুৎফুজ্জামান বাবর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি ২০০৭ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন; ফলে তার কারাবাসের সময়কাল ছিল প্রায় সাড়ে ১৭ বছর।
পরবর্তী রাজনৈতিক জীবন
কারামুক্তির পর বাবর আবারও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন এবং নেত্রকোনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার দীর্ঘ কারাবাস ও পরবর্তী মুক্তি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচন
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আবার জাতীয় সংসদে ফিরে আসেন বলে সাম্প্রতিক নির্বাচনী তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
লুৎফুজ্জামান বাবরের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকা, ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার, দীর্ঘ কারাবাস, পরবর্তী বিভিন্ন মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২০২৪–২০২৫ সালে খালাস ও মুক্তি—সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি।
জানেন কি?
লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০১–২০০৬ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ২৮ মে গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রায় সাড়ে ১৭ বছর কারাগারে ছিলেন। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে খালাস পান।

