Biography

Politician · Bangladesh

কাজী জাফর আহমেদ

কাজী জাফর আহমেদ (১ জুলাই ১৯৩৯ – ২৭ আগস্ট ২০১৫) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১২ আগস্ট ১৯৮৯ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কাজী জাফর আহমেদWikimedia Commons
01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাজী জাফর আহমেদ ১ জুলাই ১৯৩৯ সালে তৎকালীন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুলনা জিলা স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ অনার্স ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএ এবং আইন বিষয়ে এলএলবি পড়াশোনাও করেছিলেন, তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কারাবরণের কারণে এসব পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করতে পারেননি।

ছাত্রজীবন থেকেই কাজী জাফর আহমেদ রাজনীতিতে সক্রিয় হন। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরে সংগঠনটির রাজশাহী জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস সম্পাদক নির্বাচিত হন। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র ও গণআন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে ভূমিকা রাখেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন এবং পরে ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন।

এরশাদ সরকারের সময় কাজী জাফর আহমেদ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাণিজ্য, তথ্য ও সম্প্রচার এবং শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮৬–১৯৮৭ এবং ১৯৮৮–১৯৮৯ সময়কালে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ আগস্ট ১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ছিল ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর কাজী জাফর আহমেদ বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি কুমিল্লা-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ফলে তিনি নিজস্ব অংশের নেতৃত্ব দেন এবং ২০১৩ সালে জাতীয় পার্টির একটি পৃথক ধারা প্রতিষ্ঠা করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের মধ্যে ‘আমার রাজনীতির ৬০ বছর: জোয়ার-ভাটার কথন’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯–২০০০ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

কাজী জাফর আহমেদ ২৭ আগস্ট ২০১৫ সালে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি একজন দীর্ঘদিনের বামপন্থী রাজনীতিক থেকে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা এবং পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন।

জানেন কি?

• কাজী জাফর আহমেদ ১ জুলাই ১৯৩৯ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। • তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ অনার্স ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। • তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের সময়কালে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। • তিনি ১২ আগস্ট ১৯৮৯ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। • তিনি কুমিল্লা-১২ আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। • তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম ‘আমার রাজনীতির ৬০ বছর: জোয়ার-ভাটার কথন’। • তিনি ২৭ আগস্ট ২০১৫ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

আরও রাজনীতিবিদ