Politician · Bangladesh
হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ২৯ অক্টোবর ১৯৪৪ সালে ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি ফুটবলার ও অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিতি পান; পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং বীর বিক্রম খেতাব লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।
Wikimedia Commonsহাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ক্রীড়াবিদ ও সাবেক মন্ত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের মার্চে তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 2026— | President of Bangladesh | — |
| 2008—2014 | Member of the Parliament of Bangladesh | 6 yr |
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৯ অক্টোবর ১৯৪৪ সালে ভোলা জেলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ড. আজহার উদ্দিন আহমদ পাকিস্তান আমলে জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই তিনি জনজীবন ও নেতৃত্বের সঙ্গে পরিচিত হন।
শিক্ষাজীবন
তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন সূত্রে তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্নের সাল ১৯৬৫ ও ১৯৬৮—দুইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; তাই সালটি নিয়ে সূত্রভেদে পার্থক্য রয়েছে।
ক্রীড়াজীবন
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন পরিচিত ফুটবলার ও অ্যাথলেট। তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবসহ ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের হয়েও খেলেছেন। পাশাপাশি ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের রেকর্ডধারী ছিলেন। ফুটবলে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি FIFA Order of Merit লাভ করেন।
সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধ
ক্রীড়াজীবনের পর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেড ফোর্সের অধীনে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সম্মুখযুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করে।
রাজনৈতিক জীবন
মুক্তিযুদ্ধের পর সামরিক জীবন থেকে অবসর নিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোলা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন এবং ১৯৮৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন।
তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনের নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে বিজয়ী হন।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি প্রথমে পাটমন্ত্রী, পরে পানিসম্পদমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৬ সালে নতুন সরকার গঠনের পর তিনি স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।
বিএনপির নেতৃত্ব
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তিনি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদীয় দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার
১২ মার্চ ২০২৬ হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদীয় নেতৃত্বের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারি জীবনীতে তাঁর ফুটবল, সামরিক, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অর্জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রীড়া প্রশাসনে ভূমিকা
ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ক্রীড়া প্রশাসনেও যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
উল্লেখযোগ্য অর্জন
হাফিজ উদ্দিন আহমদের দীর্ঘ কর্মজীবনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় রয়েছে—
- মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর
- পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড়
- পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক স্প্রিন্ট রেকর্ডধারী
- FIFA Order of Merit প্রাপ্ত
- ভোলা-৩ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য
- সাবেক পাট, পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য
- ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার
ব্যক্তিজীবন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দিলারা হাফিজ শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
উত্তরাধিকার
হাফিজ উদ্দিন আহমদের জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—ক্রীড়া, সামরিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি—জুড়ে বিস্তৃত। একজন ফুটবলার ও অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, বীর বিক্রম খেতাব অর্জন, দীর্ঘ সংসদীয় জীবন এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের জনজীবনে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
জানেন কি?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একসময় পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলেছেন। ২০০৪ সালে তিনি FIFA Order of Merit লাভ করেন। তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে বহুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।

