Biography

Politician · Bangladesh

গোলাম আযম

গোলাম আযম ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এবং বাংলাদেশের রাজনীতির অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

গোলাম আযমWikimedia Commons
৯১বয়স

গোলাম আযম

01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্ম ও পরিবার

গোলাম আযম ৭ নভেম্বর ১৯২২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম প্রধান নেতা ও সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন

গোলাম আযম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন এবং মুসলিম ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন

পাকিস্তান আমলে গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের হত্যা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি ও গণহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকা

১৯৭১ সালে গোলাম আযম বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন। যুদ্ধ চলাকালে তাঁর নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতামূলক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তীতে তাঁকে ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, সহযোগিতা এবং হত্যা ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে অবস্থান

১৯৭১ সালের শেষ দিকে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণা চালান। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের স্বীকৃতি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মহলে প্রচারণা চালান।

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ও নাগরিকত্ব

১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ সময় তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক ছিল। ১৯৯৪ সালে আদালতের আদেশের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির

১৯৯১ সালে গোলাম আযম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হন। তাঁর নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সক্রিয় ছিল।

১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালত গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রতীকী বিচার করে। এই ঘটনা বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০০০ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পদ ছেড়ে দেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মতিউর রহমান নিজামী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার

২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি গোলাম আযমকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে।

২০১৩ সালের ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে পাঁচটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং হত্যা ও নির্যাতনের মতো অপরাধ। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মোট ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তাঁর বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

গোলাম আযম এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সরকারও তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ উভয় আপিলকে অকার্যকর হিসেবে খারিজ করে দেয়।

মৃত্যু

গোলাম আযম ২৩ অক্টোবর ২০১৪ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর। তিনি তখন ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া ৯০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

গোলাম আযম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে বিতর্কিত একটি নাম। একদিকে তিনি দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন; অন্যদিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হন এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁর বিচার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

জানেন কি?

তিনি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হন। ২০০০ সালে তিনি জামায়াতের আমিরের পদ ছেড়ে দেন। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ২৩ অক্টোবর ২০১৪ সালে ৯২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে করা আপিল তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে অকার্যকর হিসেবে খারিজ হয়।

আরও রাজনীতিবিদ