Biography

Politician · Bangladesh

গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)

জিএম কাদের বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)Wikimedia Commons
৭৮বয়স
৫Positions held

জিএম কাদের

01

Positions held

5 offices
YearsOfficeTenure
2024Leader of the Opposition6 mo
2019—Member of the Parliament of Bangladesh—
2011—2014Minister of Commerce2 yr
2009—2014Member of the Parliament of Bangladesh4 yr
1996—2006Member of the Parliament of Bangladesh10 yr
02

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্ম ও পরিবার

গোলাম মোহাম্মদ কাদের, যিনি জিএম কাদের নামে বেশি পরিচিত, বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই। তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি মূলত জাতীয় পার্টিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।

শিক্ষাজীবন

জিএম কাদের প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি পেশাগত জীবনেও কাজ করেন।

কর্মজীবন

রাজনীতিতে আসার আগে জিএম কাদের প্রকৌশল পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

রাজনৈতিক জীবন

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯৬ সালে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে লালমনিরহাট-৩ এবং ২০২৪ সালে রংপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি রংপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে তৃতীয় অবস্থানে থেকে পরাজিত হন।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব

জিএম কাদের বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তিনি বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জিএম কাদের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালে জাতীয় পার্টিতে আরেকটি বড় বিভক্তি দেখা দেয় এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে একটি পৃথক অংশ গঠিত হয়; জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ নিজেকে জাতীয় পার্টির মূল ধারার অংশ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জিএম কাদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারি তালিকাতেও দ্বাদশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচন

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিএম কাদের জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রংপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের আগে তিনি দলটির ১৯৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি এবং জিএম কাদের নিজ আসনেও তৃতীয় হন।

রাজনৈতিক অবস্থান

জিএম কাদের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সংস্কার, নারীর অধিকার এবং জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং তাঁর দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।

সমালোচনা ও বিতর্ক

জিএম কাদেরের রাজনৈতিক জীবন বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তদন্তের অংশ হিসেবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সে সময় কর ফাঁকি ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের কথা জানানো হয়; কাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়

২০২৬ সালের নির্বাচনের পর জিএম কাদের আর সংসদ সদস্য নন। তিনি তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলটি কোনো সংসদীয় আসন পায়নি।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

জিএম কাদের বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এরশাদের ভাই হিসেবে তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি নিজস্ব সংসদীয় ও মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

জানেন কি?

জিএম কাদের ২০২৪ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তৃতীয় হন।

আরও রাজনীতিবিদ