Wikimedia Commonsএ. কে. ফজলুল হক
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
আবুল কাশেম ফজলুল হক, যিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত, ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ সালে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তীকালে উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি রাজনীতিবিদ ও জননেতায় পরিণত হন।
শিক্ষাজীবন
ফজলুল হক কলকাতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভের পর আইন অধ্যয়ন করেন এবং ব্যারিস্টারি পেশায় যুক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবন
ফজলুল হক ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।
১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৫৪ সালে তিনি পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। একই সময়ে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য ভূমিকা
ফজলুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক ও নিম্নবিত্ত মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা। তিনি জমিদারি ও কৃষক-শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বাংলার কৃষকসমাজকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন।
তাঁর নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টি বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
লাহোর প্রস্তাব
১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশনে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কলকাতার মেয়র
১৯৩৫ সালে ফজলুল হক কলকাতা করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এই সময় তিনি নগর প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নর
১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। তাঁর সরকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যু
এ. কে. ফজলুল হক ২৭ এপ্রিল ১৯৬২ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের কাছে সমাহিত করা হয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন বাংলার কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন উপমহাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
তাঁর জনমুখী রাজনীতি এবং কৃষকসমাজের অধিকার নিয়ে কাজের কারণে তিনি “শেরে বাংলা” নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
জানেন কি?
তাঁর জনপ্রিয় উপাধি ছিল শেরে বাংলা। তিনি ১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র ছিলেন। ১৯৩৭–১৯৪৩ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৫৬–১৯৫৮ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন।

