Politician · Bangladesh
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ছিলেন বাংলাদেশের একজন আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
Wikimedia Commonsফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
তিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
আইন পেশা
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন। তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেন।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নবম জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালে তিনি আবারও সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদেও তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদীয় ভূমিকা
সংসদ সদস্য হিসেবে ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী আইন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে একটি বিলের প্রস্তাব করেন, যা সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও তিনি উত্থাপন করেন।
মৃত্যু
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ২ জানুয়ারি ২০২০ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৯ বছর। তিনি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাঁর জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আইন পেশা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অবদান রাখেন।
জানেন কি?
তিনি দুইবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ৪৯ বছর বয়সে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

