Politician · Bangladesh
ডা. দীপু মনি (Dipu Moni)
জন্ম: ৮ ডিসেম্বর ১৯৬৫ জন্মস্থান: কামরাঙ্গা, চাঁদপুর পেশা: চিকিৎসক, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ পিতা: এম. এ. ওয়াদুদ মাতা: রহিমা ওয়াদুদ স্বামী: ব্যারিস্টার তৌফিক নওয়াজ রাজনৈতিক দল: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় আসন: চাঁদপুর-৩ সাবেক পদ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ২০০৯–২০১৩ শিক্ষামন্ত্রী: ২০১৯–২০২৪ সমাজকল্যাণমন্ত্রী: ২০২৪
Wikimedia Commonsডা. দীপু মনি — পূর্ণ জীবনী
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 2019— | Member of the Parliament of Bangladesh | — |
| 2019— | Minister of Education | — |
| 2009—2013 | Minister of Foreign Affairs of Bangladesh | 4 yr |
| 2009— | Member of the Parliament of Bangladesh | — |
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
ডা. দীপু মনি ১৯৬৫ সালের ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর সদর উপজেলার কামরাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এম. এ. ওয়াদুদ ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন রাজনীতিবিদ এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন পর্যায়ের নেতা। তাঁর মা রহিমা ওয়াদুদ ছিলেন একজন শিক্ষিকা।
শিক্ষাজীবন
দীপু মনি হলিক্রস কলেজ, ঢাকা থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (MPH) এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোচনা, সমঝোতা ও সংঘাত নিরসনসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
চিকিৎসা ও আইন পেশা
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি দীপু মনি চিকিৎসা ও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্য অধিকার এবং আইনসংক্রান্ত বিষয়গুলো তাঁর পেশাগত আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল।
রাজনৈতিক জীবন
দীপু মনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং দলের নারী বিষয়ক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সংসদীয় কর্মকাণ্ড
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ করার পরও তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ২০১৪–২০১৮ সময়কালে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং মানবাধিকারবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষামন্ত্রী
২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার, পাঠ্যক্রম, উচ্চশিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও পরিচিত।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নতুন মন্ত্রিসভায় দীপু মনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তিনি ১১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৬ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীপু মনি গ্রেপ্তার হন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে কারাগারে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে কয়েকটি মামলায় তিনি জামিনও পেয়েছেন বা জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। এসব অভিযোগ ও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সেগুলোকে চূড়ান্ত অপরাধপ্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
ব্যক্তিগত জীবন
দীপু মনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নওয়াজকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের পারিবারিক জীবনে সন্তান রয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে তৌফিক নওয়াজের মৃত্যুর পর দীপু মনি কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তার জানাজা ও শেষ বিদায়ে অংশ নেন।
রাজনৈতিক পরিচিতি ও উত্তরাধিকার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীপু মনির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন। চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, আইন ও রাজনীতির অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছে।
জানেন কি?
দীপু মনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় এমবিবিএস, জনস্বাস্থ্যে MPH এবং আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

