Biography

Politician · Bangladesh

ব্রজ বিহারী বড়ুয়া

ব্রজ বিহারী বড়ুয়া ছিলেন বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক। তিনি ৩ মার্চ ১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ঢেমশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি বান্দরবান অঞ্চলে সমাজসেবা, ভেষজ চিকিৎসা ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

ব্রজ বিহারী বড়ুয়াWikimedia Commons
৭৮বয়স
01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রজ বিহারী বড়ুয়া ছিলেন বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও আধ্যাত্মিক সাধক। তার জন্মনাম ছিল ব্রজেন্দ্র বিহারী বড়ুয়া। তিনি ৩ মার্চ ১৯৩৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়ার ঢেমশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা উপেন্দ্র লাল বিহারী বড়ুয়া ব্রিটিশ আমলে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মা ছিলেন সীতা রানী বড়ুয়া। তিনি একটি বাঙালি বৌদ্ধ পরিবারে বেড়ে ওঠেন।

তরুণ বয়স থেকেই ব্রজ বিহারী বড়ুয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তিনি সামাজিক বৈষম্য, দারিদ্র্য ও মানুষের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে কাজ করতেন। সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার আরেকটি পরিচিত নাম ছিল ‘ব্রজ ফকির’ বা ‘ফকির মামা’।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যুদ্ধে যুক্ত হন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং স্থানীয় প্রতিরোধ কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সাংগঠনিক ও সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। ১৪ ডিসেম্বর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অঞ্চল হানাদারমুক্ত হওয়ার সময়ও মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রমে তিনি যুক্ত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর ব্রজ বিহারী বড়ুয়া বান্দরবান অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি নিজেকে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করেন। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তায় তিনি কাজ করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসা বা কবিরাজি চিকিৎসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় ভূমিকা রাখেন।

সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রচারে মনোযোগী ছিলেন। মানবতা, নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও অহিংসার মতো মূল্যবোধকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি একজন সমাজসেবক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৭০ সালে লিলি বড়ুয়াকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল।

ব্রজ বিহারী বড়ুয়া ১২ এপ্রিল ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৯ বছর। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে বান্দরবান জেলার সুয়ালক এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের অবদান, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি স্থানীয়ভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

জানেন কি?

জানেন কি, ব্রজ বিহারী বড়ুয়া ‘ব্রজ ফকির’ ও ‘ফকির মামা’ নামেও পরিচিত ছিলেন? ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের অধীনে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর বান্দরবান অঞ্চলে সমাজসেবা, ভেষজ চিকিৎসা ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

আরও রাজনীতিবিদ