Politician · Bangladesh
আবুল হাসান মাহমুদ আলী
আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছিলেন বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। তিনি পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০২৪ সালে অর্থমন্ত্রী ছিলেন।
Wikimedia Commonsআবুল হাসান মাহমুদ আলী
Positions held
| Years | Office | Tenure |
|---|---|---|
| 2013—2019 | Minister of Foreign Affairs of Bangladesh | 5 yr |
| 2012—2013 | Minister of Disaster Management and Relief | 1 mo |
| 2009—2024 | Member of the Parliament of Bangladesh | 15 yr |
জীবনী
জন্ম ও পরিবার
আবুল হাসান মাহমুদ আলী ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ সালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ডাক্তারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা হাসান আলী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মান এবং ১৯৬৩ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ান।
কূটনৈতিক জীবন
১৯৬৬ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে নিউইয়র্কে পাকিস্তানের ভাইস-কনসাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নয়াদিল্লি ও বেইজিংসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।
তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে রাষ্ট্রদূত এবং ১৯৯৬ সালে নেপালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন এবং একই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন এবং মে ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পান। কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ
কূটনৈতিক চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে দলের বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দিনাজপুর-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
২০১২ সালে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ২০১৩ সালে তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরও তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন।
২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা
কূটনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে কাজ করেন। অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে ১৯৯২ সালে ভারতের সঙ্গে টিনবিঘা করিডোর বাস্তবায়ন চুক্তি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বার্মিজ শরণার্থী প্রত্যাবাসন চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ভূমিকা রাখেন।
মৃত্যু
আবুল হাসান মাহমুদ আলী ৬ নভেম্বর ২০২৫ সালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরদিন ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
আবুল হাসান মাহমুদ আলীর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভূমিকা। কূটনীতিক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে এসে সংসদ সদস্য ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জানেন কি?
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়িয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী—দুই গুরুত্বপূর্ণ পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন।

