Biography

Politician · Bangladesh

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ – ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও কৃষকনেতা। তিনি ‘মজলুম জননেতা’ নামে পরিচিত এবং পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীWikimedia Commons
৯৫বয়স
২পুরস্কার
01

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী গণনেতা। তিনি ১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বলে প্রচলিত। তার শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।

ভাসানী ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরবর্তীতে কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত হন। আসামের ভাসানচরে বসতি স্থাপনকারী কৃষকদের মধ্যে কাজ করার কারণে তিনি ‘ভাসানী’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষায় তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ধীরে ধীরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন এবং দলটির প্রথম সভাপতি হন। পরবর্তীতে দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসেন।

১৯৫০-এর দশকে ভাসানী ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং কৃষক-শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ ও বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলন ভাসানীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই সম্মেলনে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তীব্র রাজনৈতিক সতর্কবার্তা দেন। পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন এবং পাকিস্তানের সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

১৯৬০-এর দশকে তিনি আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে তার অবস্থান ছিল দৃঢ়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতেও তার আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাসানী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারতে অবস্থান করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পরও তিনি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং জনগণের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভাসানী ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী কণ্ঠ। তিনি কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতির পক্ষে কথা বলেন। তার রাজনৈতিক দর্শনে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

মাওলানা ভাসানী ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাহিত করা হয়। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছেন।

জানেন কি?

• মাওলানা ভাসানী ‘মজলুম জননেতা’ নামে সর্বাধিক পরিচিত। • তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দলটির প্রথম সভাপতি ছিলেন। • ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। • তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। • কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল। • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। • তিনি ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে সমাহিত করা হয়।

আরও রাজনীতিবিদ