Biography

Writer · British Raj

পরমহংস যোগানন্দ

পরমহংস যোগানন্দ ছিলেন একজন ভারতীয় যোগী, সন্ন্যাসী, আধ্যাত্মিক গুরু ও লেখক। তাঁর জন্মনাম ছিল মুকুন্দ লাল ঘোষ। তিনি ৫ জানুয়ারি ১৮৯৩ সালে ভারতের গোরখপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে ভারতীয় যোগ ও ধ্যানের শিক্ষা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯২০ সালে Self-Realization Fellowship প্রতিষ্ঠা করেন এবং ক্রিয়া যোগ ও আত্মউপলব্ধির শিক্ষাকে পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ *Autobiography of a Yogi* ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক গ্রন্থে পরিণত হয়।

পরমহংস যোগানন্দWikimedia Commons
৫৯বয়স
৬Selected bibliography
01

Selected bibliography

From Wikidata — check and trim
YearWork
1946Autobiography of a Yogi
2004The Second Coming of Christ
2016Moudrost Jógánandy. Tajemství trvalého štěstí Část 1
2016Moudrost Jógánandy. Karma a reinkarnace Část 2
2017Moudrost Jógánandy. Duchovní vztahy Část 3
—The Science of Religion
02

জীবনী

হালনাগাদ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরমহংস যোগানন্দ ছিলেন ভারতীয় যোগী, সন্ন্যাসী, আধ্যাত্মিক গুরু ও লেখক। তাঁর জন্মনাম ছিল মুকুন্দ লাল ঘোষ। তিনি ৫ জানুয়ারি ১৮৯৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের গোরখপুরে একটি ধর্মপরায়ণ বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর আকর্ষণ দেখা যায় এবং তিনি বিভিন্ন সাধু ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের সন্ধান করতে থাকেন।

১৯১০ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি স্বামী শ্রীযুক্তেশ্বর গিরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শ্রীযুক্তেশ্বর পরবর্তীতে তাঁর প্রধান গুরু হন। যোগানন্দ প্রায় এক দশক তাঁর আশ্রমে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও সাধনা করেন। ১৯১৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি স্বামী সম্প্রদায়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং ‘যোগানন্দ’ নাম লাভ করেন।

১৯১৭ সালে তিনি একটি ‘হাউ-টু-লিভ’ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যোগব্যায়াম, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সমন্বয় করা হয়। তাঁর শিক্ষাপদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।

১৯২০ সালে যোগানন্দ যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি বোস্টনে অনুষ্ঠিত International Congress of Religious Liberals-এ ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি আধ্যাত্মিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন এবং একই বছর Self-Realization Fellowship প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি যোগ, ধ্যান ও আত্মউপলব্ধির শিক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন।

১৯২০-এর দশকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বক্তৃতা ও যোগ-ধ্যান শিক্ষা প্রদান করেন। ১৯২৫ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর সংগঠনের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কার্যক্রমের ফলে পশ্চিমা বিশ্বে ভারতীয় যোগ ও আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯২৭ সালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা লাভ করেন।

১৯৩৫ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত সফর করেন। এই সফরের সময় তিনি তাঁর গুরু শ্রীযুক্তেশ্বরের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ Autobiography of a Yogi লেখার কাজ সম্পন্ন করেন।

Autobiography of a Yogi প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। বইটিতে তাঁর শৈশব, গুরুপ্রাপ্তি, আধ্যাত্মিক সাধনা, ভারতীয় যোগ-দর্শন এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর কর্মকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে। বইটি পরবর্তীতে ৫০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী অন্যতম পরিচিত আধ্যাত্মিক গ্রন্থে পরিণত হয়। ১৯৯৯ সালে এটি ‘100 Best Spiritual Books of the Century’-এর তালিকায়ও স্থান পায়।

যোগানন্দের শিক্ষার কেন্দ্রে ছিল আত্মউপলব্ধি, ধ্যান, ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ক্রিয়া যোগ। তিনি যোগকে কেবল শারীরিক ব্যায়াম হিসেবে নয়, বরং আত্মিক উন্নতি ও ঈশ্বরসচেতনতা অর্জনের একটি আধ্যাত্মিক পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয় যোগদর্শন ও ধ্যানের ধারণা পশ্চিমা সমাজে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

পরমহংস যোগানন্দ ৭ মার্চ ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বিল্টমোর হোটেলে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পরও Self-Realization Fellowship এবং ভারতের Yogoda Satsanga Society তাঁর শিক্ষা ও দর্শন বিশ্বব্যাপী প্রচার করে চলেছে। আধুনিক যুগে পূর্ব ও পশ্চিমের আধ্যাত্মিক চিন্তার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

জানেন কি?

জানেন কি, পরমহংস যোগানন্দের বিখ্যাত গ্রন্থ *Autobiography of a Yogi* প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে এবং এটি ৫০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় যোগ, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক দর্শনকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব